Published: 28 Aug 2017

মাদুলি-এক প্রাচীন বিশ্বাস

মাদুলি এক ধরণের অলঙ্কার বা ছোট গহনা যার সম্পর্কে বিশ্বাস আছে যে সেটি সমস্ত অশুভ শক্তি, ক্ষতি বা রোগ থেকে তার পরিধানকর্তাকে রক্ষা করে। এগুলি ভারত উপমহাদেশের কিছু জাত ও সম্প্রদায়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং প্রাচীন সংস্কৃতিতেও বেশ প্রচলিত ছিল।
 
সৌভাগ্যের কবচ বা মাসকট হিসাবেও মাদুলি পরিচিত, ভারতে সাধারণত এটি পেনডেন্ট বা কাড়া (বালা)র রূপে পাওয়া যায়, যার একটি রহস্যময় ক্ষমতা আছে বলে বিশ্বাস করা হয়। মাদুলির বহিঃস্থভাগ সূর্য ও পৃথিবীর শক্তিকে প্রতিনিধিত্ব করে বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস আছে যে জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি উন্নয়নের জন্য মাদুলি আরোগ্যের শক্তি এবং ইতিবাচক কম্পণ প্রেরণ করে।
 
প্রাচীন বিশ্বাস অনুসারে, পেনডেন্টটি পূর্বে-নির্ধারণ করা মান্যতা অনুসারে একটি নির্দিষ্ট আকৃতিতে তৈরি হয় যা পরিধানকর্তাকে তার শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করতে পারে। তবে, আজ মাদুলির সঙ্গে জড়িত আস্থা আর বিশ্বাস গ্রামীণ ভারতে বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়।
 
পগান সম্প্রদায় সমস্ত রকমের অশুভ শক্তিকে প্রতিরোধ করার জন্য পেনডেন্ট ও কাড়া আকৃতির মাদুলি ব্যাপকভাবে পরে। মাদুলি সৌভাগ্যের কারণ এই বিশ্বাস নিয়ে দক্ষিণের শহর কোয়েম্বাটোরের নোমাদ সম্প্রদায় বিশেষ সোনার মাদুলি ব্যবহার করে। দক্ষিণের রাজ্যগুলি নির্দিষ্ট করে বললে তামিলনাড়ু বিশ্বাস করে সোনার মাদুলি বিশেষত পেনডেন্ট তাদের সমস্ত সমস্যার একমাত্র সমাধান। ভারতের উত্তরদিকে, হিমাচল প্রদেশের একটি সাধারণ বিশ্বাস হল একটি মাদুলি তিনটি জগতকে যুক্ত করে যথা পাতাল, মানবজগত এবং ঈশ্বরের স্বর্গীয় জগত।
 
এই সমস্ত কিছুর মাঝে, দেখার মত একটি আকর্ষণীয় বিষয় হল সোনার মাদুলি। সোনার মাদুলি সাধারণত একটি সাধারণ পেনডেন্ট যা গলার পরে। লক্ষ্যণীয় হল, এটা বিশ্বাস করা হয় যে কোন রত্ন সোনার মাদুলিতে যোগ করা যায়না, তবুও সোনার মাদুলির প্রচুর বৈচিত্র্য দেখা যায়।